GPA
Calculator BD
আয়কর আইন ২০২৩ ও ১ জুলাই ২০২৬ আবগারি শুল্ক প্রজ্ঞাপন

ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) মুনাফা ক্যালকুলেটর

বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) আয়কর আইন ২০২৩ (ধারা ১০২ ও ১৪২) এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর আবগারি শুল্কের এসআরও (SRO-126) গেজেট অনুসরণ করে আমাদের এই ফিক্সড ডিপোজিট (FD / FDR) ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক বা ইসলামী ব্যাংকের মতো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মূলত ৩টি ভিন্ন উপায় বেছে নেন—১) মেয়াদপূর্তিতে এককালীন আসল ও লাভ উত্তোলন, ২) প্রতি মাসে সংসার খরচের জন্য মাসিক মুনাফা স্কিম, অথবা ৩) প্রতি ৩ মাস পর পর ত্রৈমাসিক মুনাফা উত্তোলন।

আমাদের এই টুলে আপনি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত যেকোনো আমানতে সরকারি ১০% বা ১৫% উৎসে কর এবং অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ স্থিতি (Peak Balance) অনুযায়ী আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়ার পর মেয়াদ শেষে নিট কত টাকা হাতে পাবেন, তা এক ক্লিকেই নির্ভুলভাবে যাচাই করতে পারবেন।

💡 ব্যাংকিং ইনসাইট — ১০ লাখ টাকার আবগারি শুল্ক ফাঁদ (The 10 Lakh Trap):
আপনি যদি ব্যাংকে ঠিক ১০,০০,০০০ টাকা এফডিআর করেন, মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা যুক্ত হয়ে ব্যালেন্স ক্ষণিকের জন্য ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করে (যেমন: ১০,৭২,০০০ টাকা)। ফলে অ্যাকাউন্টটি ৫০ লাখের ব্র্যাকেটে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাংক ৫০০ টাকার বদলে ৩,০০০ টাকা আবগারি শুল্ক কেটে নেয়! আমাদের ক্যালকুলেটর এই পিক-ব্যালেন্স রুল নির্ভুলভাবে হিসাব করে।

আয়কর আইন ২০২৩ (১০২ ধারা) ও এনবিআরের ১ জুলাই ২০২৬ এসআরও-১২৬ ভিত্তিক
লাইভ অটো-হিসাব
৳
৳ ১০ হাজার৳ ৫০ লাখ৳ ১ কোটি৳ ৫ কোটি
কুইক বাটন:
%
৪%৭%৮.৫%১১%১৫%
রেফারেন্স ব্যাংক রেট:
⚠️ ১০ লাখ টাকার আবগারি শুল্ক সতর্কবার্তা (The 10 Lakh Trap): আপনার মূল আমানত ১০,০০,০০০ টাকা হলেও মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা যুক্ত হয়ে বছরের পিক ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে ৳ 10,72,000.00 টাকায়। ফলে অ্যাকাউন্টটি ১০ লাখের স্ল্যাব অতিক্রম করায় ব্যাংক ৫০০ টাকার বদলে ৩,০০০ টাকা সরকারি আবগারি শুল্ক কেটে নেবে! (পরামর্শ: ১০ লাখের বদলে ৯,২০,০০০ টাকা এফডিআর করলে সোজা ২,৫০০ টাকা শুল্ক সাশ্রয় হতো)।
মেয়াদপূর্তিতে সর্বমোট নিট হাতে পাবেন (Net Final Return)
৳ 10,61,800.00
12 মাস মেয়াদে এককালীন
মূল জমাকৃত আসল টাকা (Principal):
৳ 10,00,000.00
মোট অর্জিত গ্রস মুনাফা (Gross Interest):
৳ 72,000.00
সরকারি উৎসে কর (10%):
(-) ৳ 7,200.00
PSR থাকায় ১০%
কর পরবর্তী নিট লাভ (Net Interest):
৳ 64,800.00
12 মাসের মোট নিট লাভ
সরকারি আবগারি শুল্ক (SRO-126):
(-) ৳ 3,000.00
পিক ব্যালেন্স ৳ 10,72,000.00 হওয়ায় কর্তন
মেয়াদান্তে নিট প্রাপ্তি:
৳ 10,61,800.00
আসল + নিট লাভ - শুল্ক
মূল আসল আমানত: 94.2%নিট মুনাফা: 6.1%
মেয়াদের টাইমলাইন ও মাসিক সমতুল্য রিটার্ন (Monthly Equivalency)
এই আমানত থেকে প্রতি মাসে সমতুল্য আয় হতো:
৳ 5,400.00 / মাস
বার্ষিক কার্যকর রিটার্ন রেট (Effective Yield):
6.48%

• ১ জুলাই ২০২৬ গেজেট অনুযায়ী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকিং স্থিতি সম্পূর্ণ আবগারি শুল্কমুক্ত।

• মুনাফা যোগ হয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ১০ লাখ অতিক্রম করায় ৩,০০০ টাকা সরকারি শুল্ক প্রযোজ্য।

• ৩ মাসের পূর্বে ভাঙালে লাভ ০ টাকা; আর ৩ মাস পর কিন্তু মেয়াদের পূর্বে ভাঙালে সাধারণ সেভিংস রেটে (৩.৫%-৪%) সুদ দেওয়া হবে।

Share this tool with friends:

১. এফডিআর (FDR) মুনাফা গণনার ৩টি ব্যাংকিং পদ্ধতি

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের চাহিদা ও বয়সের ওপর ভিত্তি করে ৩টি ভিন্ন নিয়মে ফিক্সড ডিপোজিট পরিচালিত হয়:

ক. মোড ১: মেয়াদপূর্তিতে এককালীন আসল ও মুনাফা (At Maturity — সর্বাধিক জনপ্রিয়)

১ বছর বা তার কম মেয়াদে (৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর) ব্যাংকগুলো সরল সুদ (Simple Interest) গণনা করে:

গাণিতিক সূত্র (Formula)
গ্রস মুনাফা = P × ( R ÷ 100 ) × ( মাস ÷ 12 )

আর ২, ৩ বা ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদে টাকা আসলের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা থাকলে ব্যাংকগুলো বাৎসরিক চক্রবৃদ্ধি (Annual Compounding) প্রয়োগ করে:

গাণিতিক সূত্র (Formula)
গ্রস ম্যাচিউরিটি ভ্যালু (A) = P × ( 1 + R ÷ 100 )^T
গাণিতিক সূত্র (Formula)
গ্রস মুনাফা = A - P

খ. মোড ২: মাসিক মুনাফা উত্তোলন স্কিম (Monthly Income Scheme)

গৃহিণী, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী বা প্রবাসীদের পরিবার প্রতি মাসের নিয়মিত খরচের জন্য এই মোড বেছে নেন। প্রতি মাসে সরাসরি সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে নিট মুনাফা জমা হয় এবং মেয়াদ শেষে মূল আসল P অক্ষত ফেরত পাওয়া যায়:

গাণিতিক সূত্র (Formula)
মাসিক গ্রস মুনাফা = (P × (R ÷ 100)) ÷ 12
গাণিতিক সূত্র (Formula)
মাসিক নিট ক্যাশ পাবেন = মাসিক গ্রস মুনাফা × (1 - ট্যাক্স রেট)

গ. মোড ৩: প্রতি ৩ মাস অন্তর মুনাফা উত্তোলন (Quarterly Payout Scheme)

গাণিতিক সূত্র (Formula)
ত্রৈমাসিক গ্রস মুনাফা = (P × (R ÷ 100)) ÷ 4
গাণিতিক সূত্র (Formula)
ত্রৈমাসিক নিট ক্যাশ পাবেন = ত্রৈমাসিক গ্রস মুনাফা × (1 - ট্যাক্স রেট)

২. সরকারি উৎসে কর (TDS) ও ১ জুলাই ২০২৬ আবগারি শুল্কের নিয়ম

ব্যাংক কখনোই আমানতের মূল আসলের ওপর কর কাটে না; কর কাটা হয় কেবল অর্জিত মুনাফার ওপর:

ক. উৎসে আয়কর কর্তন (আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ১০২ ও ১৪২):

  • ই-টিন (e-TIN) এবং রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) থাকলে: মুনাফার ওপর ১০% কর কর্তন।
গাণিতিক সূত্র (Formula)
ট্যাক্স = গ্রস মুনাফা × ০.১০
  • রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) না থাকলে: ৫০% জরিমানাসহ মুনাফার ওপর ১৫% কর কর্তন।
গাণিতিক সূত্র (Formula)
ট্যাক্স = গ্রস মুনাফা × ০.১৫
  • আপনার বাৎসরিক মোট করযোগ্য আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচে হয়, তবে বাৎসরিক জিরো রিটার্ন দাখিল করে এ টাকা সরকারি রিফান্ড বা সমন্বয় করা সম্ভব। বিস্তারিত যাচাই করতে দেখুন আমাদের ইনকাম ট্যাক্স ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ।

খ. আবগারি শুল্কের পিক-ব্যালেন্স রুল (SRO-126 গেজেট, ১ জুলাই ২০২৬):

ক্যালেন্ডার বছরের (১ জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর) যেকোনো দিনে অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ স্থিতির (Peak Balance) ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক আবগারি শুল্ক কেটে সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়:

বছরের সর্বোচ্চ স্থিতি (Peak Balance)বার্ষিক সরকারি আবগারি শুল্ক
৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত০ টাকা (সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত)
৪,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা১৫০ টাকা
৫,০০,০০১ থেকে ১০,০০,০০০ টাকা৫০০ টাকা
১০,০০,০০১ থেকে ৫০,০০,০০০ টাকা৩,০০০ টাকা
৫০,০০,০০১ থেকে ১,০০,০০,০০০ টাকা৫,০০০ টাকা
১,০০,০০,০০১ থেকে ২,০০,০০,০০০ টাকা১০,০০০ টাকা
২,০০,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০,০০০ টাকা২০,০০০ টাকা
৫,০০,০০,০০০ টাকার বেশি৫০,০০০ টাকা

বাস্তব সংখ্যা দিয়ে যাচাই (১০ লাখ টাকা, ১২ মাস, ৭.২০% রেট, ১০% কর):

  • মূল আসল ( P ): ১০,০০,০০০.০০ ৳
  • বার্ষিক গ্রস মুনাফা: ৭২,০০০.০০ ৳
  • ১০% উৎসে কর: (-) ৭,২০০.০০ ৳
  • কর পরবর্তী নিট লাভ: ৬৪,৮০০.০০ ৳
  • পিক ব্যালেন্স ১০,৭২,০০০ টাকা হওয়ায় প্রযোজ্য আবগারি শুল্ক: (-) ৩,০০০.০০ ৳
  • গ্রাহক মেয়াদান্তে সর্বমোট হাতে পাবেন = ১০,৬১,৮০০.০০ টাকা (মাসিক সমতুল্য ৫,৪০০ ৳ / কার্যকর নিট ইল্ড ৬.৪৮%)।

৩. বাস্তব অভিজ্ঞতা: এফডিআর বনাম সঞ্চয়পত্র বনাম ডিপিএস

একজন সাধারণ আমানতকারী হিসেবে আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে লাভজনক হবে?

  1. এফডিআর বনাম সঞ্চয়পত্র:
    আপনার যদি এককালীন টাকা থাকে এবং আপনি নারী, প্রবীণ বা পেনশনার হন, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে এফডিআর রাখার চেয়ে সঞ্চয়পত্র মুনাফা ও কর ক্যালকুলেটর অনুযায়ী পরিবার বা পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনা বেশি লাভজনক (১১.৮০% থেকে ১১.৯৮% সরকারি সার্বভৌম মুনাফা)। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে বা যেসব বিনিয়োগকারী প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল রাখেন, তাঁদের জন্য ব্যাংকের এফডিআর সহজ ও ঝামেলামুক্ত।
  2. এফডিআর বনাম ডিপিএস:
    এককালীন টাকা না থাকলে প্রতি মাসের বেতন থেকে সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহার করুন আমাদের ডিপিএস ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ।
  3. এফডিআর বন্ধক রেখে লোন (Loan Against FDR):
    টাকার জরুরি প্রয়োজন হলে এফডিআর না ভেঙে আমানতের ৯০% থেকে ৯৫% পর্যন্ত সহজ শর্তে ব্যাংক লোন বা ওভারড্রাফট (SOD) নেওয়া যায়। ঋণের কিস্তি যাচাই করতে দেখুন আমাদের ইএমআই ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ।

৪. এফডিআরের গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুলস ও সতর্কতা

  • মেয়াদপূর্তির পূর্বে ভাঙালে (Premature Encashment): ৩ মাসের কম সময়ে ভাঙালে কোনো মুনাফাই পাবেন না (০% লাভ)। আর ৩ মাস পর কিন্তু মেয়াদের আগে ভাঙালে চুক্তিভিত্তিক রেট বাতিল হয়ে সাধারণ সেভিংস রেটে (৩.৫% – ৪.০%) মুনাফা মিলবে।
  • অটো-রোলওভার (Auto Renewal): মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন টাকা উত্তোলন না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দিনের নতুন বাজারদরে এফডিআর রিনিউ হয়ে যায়।
  • ১০ লাখ টাকার শুল্ক বাঁচানোর কৌশল: আপনি যদি ১০ লাখ টাকার বদলে ৯,২০,০০০ টাকা এফডিআর করেন, তবে মুনাফা সহ ব্যালেন্স ১০ লাখের নিচেই থাকবে এবং আবগারি শুল্ক ৩,০০০ টাকার বদলে মাত্র ৫০০ টাকা কাটবে—ফলে সোজা ২,৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে!


৬. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: ব্যাংকে এফডিআর করার ক্ষেত্রে কি নমিনি দেওয়া বাধ্যতামূলক?

উত্তর: হ্যাঁ, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একজন বা একাধিক নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রমিত রায় অনুযায়ী, আমানতকারীর মৃত্যুর পর নমিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন, তবে দেশের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সকল বৈধ ওয়ারিশের মাঝে সে টাকা বণ্টন করতে বাধ্য থাকবেন।

প্রশ্ন: ১ লাখ টাকায় এফডিআরে প্রতি মাসে কত টাকা নিট পাওয়া যায়?

উত্তর: বার্ষিক ৮.৫% সুদের হারে ১ লাখ টাকায় মাসিক গ্রস মুনাফা প্রায় ৭০৮ টাকা। ১০% উৎসে কর বাদ দিলে প্রতি মাসে নিট হাতে প্রায় ৬৩৭ টাকা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে এফডিআরের টাকা কি নিরাপদ?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের 'ব্যাংক আমানত বীমা আইন' (BDIS) অনুযায়ী যেকোনো তফসিলি ব্যাংক দেউলিয়া হলে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।


৭. সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যসূত্র (Authoritative Resources)

এফডিআর করার ৩টি টিপস

• ১০ লাখের শুল্ক ফাঁদ: ঠিক ১০ লাখের বদলে ৯.২ লাখ টাকা রাখলে ২,৫০০ টাকা শুল্ক বাঁচে।

• PSR স্লিপ জমা দিন: রিটার্ন রসিদ জমা দিলে কর ১৫% এর বদলে ১০% কাটা হবে।

• ৩ মাসের পূর্বে ভাঙবেন না: ৩ মাসের আগে ভাঙালে কোনো মুনাফাই পাওয়া যায় না।