যাকাত ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ
যাকাত ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ ২০২৬ (BAJUS লাইভ রেট)
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ফরজ বিধান হলো যাকাত। আপনার বর্তমান নগদ অর্থ, ব্যাংক ব্যালেন্স, সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য ও বিনিয়োগের সঠিক তথ্য দিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী প্রদেয় যাকাত নিরূপণ করতে আমাদের এই ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করুন।
টুলটিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS)-এর লাইভ বাজারদর অনুযায়ী বর্তমান নিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হয়। ঋণ ও চলতি দায় বাদ দেওয়ার পর এক চান্দ্র বছর উদ্বৃত্ত সম্পদ নিসাব স্পর্শ করলে তার ২.৫% (৪০ ভাগের ১ ভাগ) যাকাত আদায় করা ফরজ।
BAJUS লাইভ রেট অনুযায়ী সোনা ও রূপার বাজার দর দিয়ে নির্ভুল যাকাত হিসাব করুন
লাইভ ধাতুর দাম ও নিসাব মান লোড হচ্ছে...
১. হাউল (Hawl): এই ক্যালকুলেটর ধরে নিচ্ছে যে আপনার উদ্বৃত্ত সম্পদ ইতিমধ্যে এক পূর্ণ চান্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) নিসাব পরিমাণের উপরে ছিল (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯২)।
২. ঋণ সমন্বয়: দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চলতি বছরে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য কিস্তি বা দেনা বাদ দেওয়া কাম্য।
৩. কার্যকর নিসাব: গরিব-মিসকিনদের অধিক উপকারের লক্ষ্যে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সোনা ও রূপার মধ্যে রূপার নিসাবকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।
ইংরেজি বা বাংলা সংখ্যায় (যেমন: ৫০,০০০ বা 50000) আপনার সম্পদের বর্তমান বাজারদর লিখুন
বাড়িতে বা ওয়ালেটে রাখা ব্যক্তিগত নগদ অর্থ
সেভিংস, কারেন্ট, এফডিআর বা ডিপিএস-এ জমা টাকা
ব্যবহারের বা জমানো সোনার পরিমাণ (১ ভরি = ১১.৬৬ গ্রাম)
রুপার অলঙ্কার, কয়েন বা বারের মোট ওজন
ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য রাখা মালের বর্তমান বাজারদর
শেয়ার বাজার, সঞ্চয়পত্র, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ
কাউকে ধার দেওয়া টাকা যা ফেরত পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে
কুরআন ও হাদিসের আলোকে জাকাতের পূর্ণাঙ্গ বিধান
জাকাত ক্যালকুলেটরের গাণিতিক সমীকরণ ও ফিকহগত নিয়মের প্রামাণিক দলিল
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "পাঁচ উকিয়া (২০০ দিরহাম) রৌপ্যের কম পরিমাণে কোনো জাকাত নেই।" (সহীহ বুখারী: ১৪৪৭, সহীহ মুসলিম: ৯৭৯)।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "২০ দিনারের কম সোনায় কিছু নেই, ২০ দিনারে অর্ধ দিনার জাকাত।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৭৩)।
অধিকাংশ মানুষ ২.৫% হারকে শুধু আধুনিক হিসাব মনে করলেও এটি সরাসরি হাদিস থেকে প্রমাণিত:
অর্থাৎ আপনার নিট সম্পদকে ৪০ দিয়ে ভাগ করলে যা আসে, তাই আপনার প্রদেয় জাকাতের মূল পরিমাণ।
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: "কোনো সম্পদে এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে জাকাত নেই।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৯২)।
সাহাবা ও তাবেয়ীদের ইজমা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর যদি সেই সম্পদ বা সমপরিমাণ উদ্বৃত্ত এক চান্দ্র বছর স্থায়ী হয়, তবেই বছরান্তে জাকাত দেওয়া ফরজ হয়।
সাহাবী সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বাণিজ্য পণ্য থেকে জাকাত আদায় করি।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৬২)।
ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্যায়ন ক্রয়মূল্য নয়, বরং জাকাত আদায়ের দিনে পাইকারি বা খুচরা বর্তমান বিক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব করা ফিকহবিদদের নির্দেশ।
"নিশ্চয় সদকা (জাকাত) কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে হয়, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান।" — (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০)
জাকাত সংক্রান্ত বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সমাধান (FAQ)
যাকাত হিসাবের মূলনীতি ও পূর্ণাঙ্গ ফিকহি বিশ্লেষণ
যাকাত কেবল কোনো সাধারণ ঐচ্ছিক দান নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ঐশী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে এবং সম্পদকে পবিত্র ও প্রবৃদ্ধিশীল করে (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১০৩)।
📌 যাকাত হিসাবের ৫টি মূল স্তম্ভ একনজরে:
- নিসাব থ্রেশহোল্ড: ৫২.৫ ভরি রূপা (৬১২.৩৬ গ্রাম) অথবা ৭.৫ ভরি সোনা (৮৭.৪৮ গ্রাম)-এর বর্তমান বাজারমূল্যের সমপরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকা।
- কার্যকর নিসাব: গরিব-অসহায় মানুষের সর্বোচ্চ উপকারের লক্ষ্যে হানাফি ফিকহ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় রূপার নিসাবকে ভিত্তি ধরা হয়।
- যাকাতের হার: নিট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)।
- হাউল (এক চান্দ্র বছর): সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়ার পর পূর্ণ এক চান্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) আপনার মালিকানায় উদ্বৃত্ত থাকতে হবে।
- পবিত্রকরণ: ঋণ ও চলতি দায় বাদ দিয়ে নিট সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয়।
⚠️ বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে যাকাত হিসাবের ৫টি প্রচলিত ভুল (Avoid These Mistakes)
আমাদের দীর্ঘদিনের পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ যাকাত হিসাব করার সময় প্রধানত নিচের ৫টি ভুল করে থাকেন:
- গহনার মজুরি (Making Charge) ও ভ্যাট যোগ করা: অনেকে অলংকার কেনার মেমো দেখে কেনা দামের ওপর যাকাত হিসাব করেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল। যাকাত দিতে হবে অলংকারের খাঁটি ধাতুর ওজনে (Net Gold Weight), কারিগরের মজুরি বা ভ্যাটের ওপর কোনো যাকাত নেই।
- ব্যবসার মালের ক্রয়মূল্য ধরা: দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইনভেন্টরির ক্ষেত্রে পণ্য যে দামে কেনা হয়েছিল তা নয়; বরং যাকাত আদায়ের দিনে পাইকারি/বর্তমান বিক্রয়মূল্য (Current Market Value) হিসাব করতে হবে।
- দীর্ঘমেয়াদী ঋণের পুরো টাকা বাদ দেওয়া: গৃহঋণ (Home Loan) বা ২০-৩০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট লোনের পুরো অঙ্ক একবারে বাদ দিয়ে অনেকে যাকাতকে 'শূন্য' বানিয়ে ফেলেন। সঠিক ফতোয়া হলো—শুধুমাত্র চলতি বছরে পরিশোধযোগ্য কিস্তির টাকা বাদ যাবে, পুরো দীর্ঘমেয়াদী মূল ঋণ নয়।
- স্ত্রীর গহনার যাকাত নিয়ে বিভ্রান্তি: স্ত্রীর মোহরানা বা উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণালংকারের প্রকৃত মালিক স্ত্রী নিজে। তাই এর যাকাত দেওয়ার দায়িত্বও স্ত্রীর। তবে স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের টাকা থেকে তা আদায় করে দেন, তবে যাকাত আদায় হয়ে যাবে।
- সৌর বছর বনাম চান্দ্র বছরের হিসাব না রাখা: ইংরেজি ক্যালেন্ডার (৩৬৫ দিন) অনুযায়ী যাকাত দিলে বছরে ১১ দিন বাদ পড়ে যায়। তাই চান্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) অনুসরণ করতে হবে। সৌর বছরে হিসাব করলে যাকাতের হার হবে ২.৫৭৭%।
১. নিসাব (Nisab) কী এবং কেন রূপার নিসাবই কার্যকর?
নিসাব হলো শরিয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ, যা কারও মালিকানায় থাকলে তার ওপর যাকাত ফরজ হয়।
| ধাতু | শরিয়াহ অনুযায়ী পরিমাণ | দেশীয় একক (ভরি/তোলা) | আন্তর্জাতিক মেট্রিক |
|---|---|---|---|
| রৌপ্য (Silver) | ২০০ দিরহাম (৫ উকিয়া) | ৫২.৫ ভরি | ৬১২.৩৬ গ্রাম |
| স্বর্ণ (Gold) | ২০ দিনার (মিছকাল) | ৭.৫ ভরি | ৮৭.৪৮ গ্রাম |
📜 হাদিস দলিল:
- রূপা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "পাঁচ উকিয়ার কম রূপায় কোনো যাকাত নেই।" — সহীহ বুখারী: ১৪৪৭, সহীহ মুসলিম: ৯৭৯
- সোনা ও রূপার হার সম্পর্কে হযরত আলী (রা.) বর্ণিত: "২০০ দিরহামে ৫ দিরহাম এবং ২০ দিনারে অর্ধ দিনার যাকাত।" — সুনানে আবু দাউদ: ১৫৭৩
কেন রূপার নিসাবকে ভিত্তি ধরা হয়?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ৭.৫ ভরি সোনা এবং ৫২.৫ ভরি রূপার ক্রয়ক্ষমতা প্রায় সমান ছিল (উভয়টি দিয়ে প্রায় ৪০-৫০টি ছাগল কেনা যেত)। কিন্তু আধুনিক যুগে শিল্প বিপ্লবের কারণে রূপার দাম সোনার তুলনায় অনেক কমে গেছে।
যদি সোনার নিসাব (বর্তমানে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা) ধরা হয়, তবে কোটিপতি ছাড়া মধ্যবিত্তের ওপর যাকাত ফরজ হবে না এবং লাখ লাখ গরিব মানুষ তাদের হক থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আল্লামা শামী (রহ.), ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অনুসারী ফিকহবিদগণ এবং আধুনিক ফতোয়া কাউন্সিলগুলো একমত যে—যাতে গরিবদের বেশি উপকার হয়, সেই সর্বনিম্ন নিসাবটি (অর্থাৎ রূপার মূল্য) কার্যকর ধরতে হবে।
২. স্বর্ণের ক্যারেট ও খাদ রূপান্তরের বাস্তব নিয়ম
আপনার কাছে যদি ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের সোনা থাকে, তবে সরাসরি ২৪ ক্যারেটে রূপান্তর করে বা সংশ্লিষ্ট ক্যারেটের বাজারদর দিয়ে হিসাব করতে হবে:
| ক্যারেট (Karat) | বিশুদ্ধতা (Purity) | প্রতি ভরির কার্যকর স্বর্ণমান |
|---|---|---|
| ২৪ ক্যারেট (24K) | ৯৯.৯% বিশুদ্ধ সোনা | ১.০০ ভরি খাঁটি সোনা |
| ২২ ক্যারেট (22K) | ৯১.৬% বিশুদ্ধ সোনা | ০.৯১৬ ভরি খাঁটি সোনা |
| ২১ ক্যারেট (21K) | ৮৭.৫% বিশুদ্ধ সোনা | ০.৮৭৫ ভরি খাঁটি সোনা |
| ১৮ ক্যারেট (18K) | ৭৫.০% বিশুদ্ধ সোনা | ০.৭৫০ ভরি খাঁটি সোনা |
পরামর্শ: BAJUS প্রতিদিন ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেটের আলাদা রেট প্রকাশ করে। আপনার যে ক্যারেটের অলংকার, সেই ক্যারেটের বর্তমান বাজারদর দিয়ে গুণ করাই সবচেয়ে সহজ ও নির্ভুল।
৩. বাস্তব কেস স্টাডি (Real-Life Case Studies with Numbers)
বাস্তব জীবনে কীভাবে যাকাত হিসাব করবেন, তা স্পষ্ট করতে দুটি বাস্তবমুখী উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
📌 কেস স্টাডি ১: একজন মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর যাকাত হিসাব
জনাব আরিফ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এক বছর ধরে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের বিবরণ নিম্নরূপ:
- ব্যাংক ব্যালেন্স ও সঞ্চয়: ৳১,৫০,০০০
- ডিপিএস (জমা আসল টাকা): ৳৮০,০০০
- স্ত্রীর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার (২২ ক্যারেট, ৫ ভরি × ৳১,১৫,০০০): ৳৫,৭৫,০০০
- নিশ্চিত ফেরতযোগ্য ধার দেওয়া টাকা: ৳২০,০০০
- মোট সম্পদ (Total Assets): ৳৮,২৫,০০০
দেনা বা দায় (Liabilities):
- চলতি মাসের বাসা ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল: ৳২৫,০০০
- ব্যক্তিগত ছোট ঋণ: ৳৫০,০০০
- মোট দায়: ৳৭৫,০০০
হিসাব ও ফলাফল:
- নিট সম্পদ = ৳৮,২৫,০০০ - ৳৭৫,০০০ = ৳৭,৫০,০০০
- আজকের রূপার নিসাব (৫২.৫ ভরি × ৳১,৫০০) = ৳৭৮,৭৫০
- যেহেতু নিট সম্পদ নিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, তাই জনাব আরিফের ওপর যাকাত ফরজ।
- প্রদেয় যাকাত: ৳৭,৫০,০০০ × ২.৫% = ৳১৮,৭৫০ টাকা।
📌 কেস স্টাডি ২: একজন খুচরা দোকানদারের যাকাত হিসাব
জনাব রাকিবের একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তার হিসাব নিম্নরূপ:
- দোকানে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা কাপড়ের বর্তমান পাইকারি বাজারমূল্য: ৳৬,০০,০০০
- ক্যাশবক্সে নগদ টাকা ও চলতি ব্যাংক ব্যালেন্স: ৳৮০,০০০
- কাস্টমারদের কাছে বকেয়া পাওনা (যা আদায় হবে): ৳১,২০,০০০
- দোকানে ব্যবহারের ফার্নিচার ও ডেকোরেশন (ব্যক্তিগত সম্পদ): ৳২,০০,০০০ (এর ওপর যাকাত নেই)
- যাকাতযোগ্য মোট সম্পদ: ৳৬,০০,০০০ + ৳৮০,০০০ + ৳১,২০,০০০ = ৳৮,০০,০০০
দেনা:
- মহাজন ও পাইকারি পার্টির পাওনা বিল: ৳২,৫০,০০০
- দোকানের বকেয়া ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন: ৳৫০,০০০
- মোট দেনা: ৳৩,০০,০০০
হিসাব ও ফলাফল:
- নিট সম্পদ = ৳৮,০০,০০০ - ৳৩,০০,০০০ = ৳৫,০০,০০০
- প্রদেয় যাকাত: ৳৫,০০,০০০ × ২.৫% = ৳১২,৫০০ টাকা।
৪. যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত ও বণ্টন নীতিমালা (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০)
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট ভাষায় ৮ শ্রেণির মানুষের জন্য যাকাত সুনির্দিষ্ট করেছেন:
- ফকির (Fuqara): যার সামান্য কিছু আছে কিন্তু জীবনধারণের প্রয়োজনীয় নিসাব পরিমাণ নেই।
- মিসকিন (Masakin): যার একেবারেই কোনো সহায়-সম্বল বা সম্পদ নেই।
- যাকাত কর্মকর্তা (Amilina Alayha): ইসলামী রাষ্ট্র কর্তৃক যাকাত আদায় ও বিতরণে নিয়োজিত কর্মচারী।
- মন জয় করার জন্য (Muallafat al-Qulub): নও-মুসলিম যাদের ইসলামের ওপর অবিচল রাখার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।
- দাসমুক্তি (Fir-Riqab): ক্রীতদাস বা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার জন্য।
- ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (Al-Gharimin): যিনি সৎ প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
- আল্লাহর পথে (Fi-Sabilillah): দ্বীন প্রচার, দ্বীনি শিক্ষা অর্জন ও ইসলামের সুরক্ষায় আত্মনিবেদিত ব্যক্তিগণ।
- বিপন্ন মুসাফির (Ibnus-Sabil): সফরে এসে বিপদগ্রস্ত বা অর্থশূন্য হয়ে পড়া ব্যক্তি।
৫. কাকে যাকাত দেওয়া যাবে এবং কাকে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম?
| কাকে যাকাত দেওয়া যাবে (দ্বিগুণ সওয়াব) | কাকে যাকাত দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ / হারাম |
|---|---|
| ✅ আপন গরিব ভাই ও বোন | ❌ নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী (উর্ধ্বতন) |
| ✅ চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও তাদের অভাবী সন্তান | ❌ নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী (অধস্তন বংশধর) |
| ✅ সৎ ও গরিব প্রতিবেশী | ❌ স্বামী তার স্ত্রীকে বা স্ত্রী তার স্বামীকে |
| ✅ উপযুক্ত অভাবী আলেম, তালিবুল ইলম ও সাধারণ মিসকিন | ❌ বিত্তশালী বা ধনী ব্যক্তি |
| ✅ ঋণগ্রস্ত গরিব আত্মীয় | ❌ অমুসলিমদের (তাদের সাধারণ নফল দান করা যাবে) |
বিশেষ হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—"সাধারণ মিসকিনকে সদকা করলে একটি সওয়াব (দানের), আর অভাবী আত্মীয়কে দিলে দুটি সওয়াব হয়: একটি দানের সওয়াব, অপরটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার সওয়াব।" (সুনানে তিরমিযী: ৬৫৪)
৬. সমকালীন আধুনিক সম্পদের যাকাত গাইড
- প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF / CPF): বাধ্যতামূলক জিপিএফ-এর টাকা যতদিন চাকরিজীবীর হস্তগত না হয়, ততদিন যাকাত নেই। টাকা উত্তোলনের পর বিগত ১ বছরের যাকাত দিতে হবে। তবে ঐচ্ছিক অতিরিক্ত জমার ওপর প্রতি বছর যাকাত প্রযোজ্য।
- সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra): সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকৃত মূল টাকার ওপর প্রতি বছর ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। প্রাপ্ত মুনাফা হালাল পদ্ধতিতে ব্যয় করতে হবে।
- জমি ও প্লট: বসবাসের বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কেনা জমিতে কোনো যাকাত নেই। তবে ভবিষ্যতে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে (Commercial Speculation) কেনা প্লটের বর্তমান বাজারদরের ওপর প্রতি বছর যাকাত দিতে হবে।
- ভাড়ায় দেওয়া বাড়ি/গাড়ি: বাড়ি বা গাড়ির মূল্যের ওপর যাকাত নেই; বরং তা থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার টাকা যদি উদ্বৃত্ত হিসেবে নিসাব পরিমাণ থাকে, তবে তার ওপর ২.৫% যাকাত প্রযোজ্য।