GPA
Calculator BD

আঞ্চলিক জমি রূপান্তরকারী ক্যালকুলেটর

আঞ্চলিক জমি রূপান্তরকারী (Regional Land Unit Converter)

বাংলাদেশের ব্রিটিশ আমলের সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) খতিয়ান ও স্থানীয় পুরনো দলিলে ব্যবহৃত আঞ্চলিক এককগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।

এই টুলের মাধ্যমে আপনি চট্টগ্রামের কানি-গণ্ডা, সিলেটের কেদার-হাল, নোয়াখালীর কানি এবং ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের পাখি বা দোন-কে সরাসরি সরকারি শতক, কাঠা ও বিঘায় রূপান্তর করতে পারবেন। আবার বিপরীতভাবে, সরকারি শতক বা কাঠা লিখে দলিলে লেখার উপযোগী আঞ্চলিক খতিয়ান বয়ান তৈরি করতে পারবেন। নিচে আপনার মোড ও অঞ্চল নির্বাচন করুন:


চট্টগ্রাম বিভাগ১ কানি = 40 শতক
আঞ্চলিক একক (কানি-গণ্ডা-কড়া) থেকে সরকারি রূপান্তর
১ কানি = ২০ গণ্ডা = ৪০ শতক (১৭,৪২৪ বর্গফুট)। সমতল ভূমি ও বসতভিটার জন্য প্রযোজ্য।
দ্রুত প্রিসেট টেস্ট:
দলিল বা খতিয়ানের পরিমাপ ইনপুট দিন:(যে ঘরের মান জানা নেই, সেটি ফাঁকা রাখুন)
* ২০ গণ্ডা = ১ কানি | ৪ কড়া = ১ গণ্ডা | ৩ ক্রান্তি = ১ কড়া | ২০ তিল = ১ ক্রান্তি১ কানি = ৪,৮০০ তিল

ফলাফল দেখার জন্য ওপরের ইনপুট বক্সে পরিমাণ লিখুন

উপরে অঞ্চল পরিবর্তন করে কানি, গণ্ডা অথবা সরকারি শতকের মাপ দিয়ে সরাসরি রূপান্তর করতে পারবেন।

সিএস ও আরএস খতিয়ানের সাংকেতিক চিহ্ন গাইড (Khatian Signs)
প্রাচীন ব্রিটিশ আমলের সিএস (CS) ও এসএ (SA) খতিয়ানে সংখ্যা লেখার বদলে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে কড়া ও ক্রান্তি প্রকাশ করা হতো:
১ কড়া ( / )

একটি ডানহাতি হেলানো দাগ দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

২ কড়া ( // )

দুটি সমান্তরাল হেলানো দাগ দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

৩ কড়া ( /// )

তিনটি সমান্তরাল হেলানো দাগ দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

১ ক্রান্তি ( \ )

একটি বাঁহাতি হেলানো বিপরীত দাগ দিয়ে ক্রান্তি চিহ্নিত হয়।

মূল সূত্র: ২০ গণ্ডা = ১ কানি | ৪ কড়া = ১ গণ্ডা | ৩ ক্রান্তি = ১ কড়া | ২০ তিল = ১ ক্রান্তি১ কানি = ৪,৮০০ তিল
Share this tool with friends:

একজন অভিজ্ঞ কানুনগো ও ভূমি রেকর্ডস স্পেশালিস্টের নোট (Expert Surveyor's Field Notes)

"বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে জটিল অধ্যায় হলো আঞ্চলিক এককগুলোর ভিন্নতা। অনেক সময় দেখা যায়, একজন ক্রেতা চট্টগ্রামে ১ কানি জমি কিনে মনে করলেন তিনি ১৬০ শতকের মালিক (যেমনটা তার নিজ জেলা বরিশালে প্রচলিত), অথচ রেজিস্ট্রি দলিলে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪০ শতক। আবার সিলেটের খতিয়ানের ১ হাল জমিকে অনেকে না বুঝে ১ কানি মনে করে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। খতিয়ানের কানি-গণ্ডা-কড়া-ক্রান্তি এবং তিলের নিখুঁত রূপান্তর জানা জমি ক্রেতা ও ওয়ারিশদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।"
— মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, সাবেক কানুনগো ও সিনিয়র ভূমি পরামর্শক (২৮ বছরের মাঠপর্যায়ের রেকর্ড অভিজ্ঞতা)

বাস্তব কেস স্টাডি: পাহাড়ি 'শাহী কানি' বনাম সমতলের 'প্রচলিত কানি'—৮০ শতকের বিরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার এক প্রবাসী ক্রেতা একটি পাহাড়ি জমি কেনার জন্য স্থানীয় এক বিক্রেতার সাথে বায়নানামা করেন। বিক্রেতার সিএস খতিয়ানে লেখা ছিল: "১ কানি জমি"।

বায়নাকারীর ধারণা ছিল ১ কানি মানে সমতলের স্ট্যান্ডার্ড ৪০ শতক। কিন্তু সরেজমিনে খতিয়ান গভীরভাবে যাচাই করে আমি দেখতে পাই, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ঐ খতিয়ানটি ছিল মূলত "শাহী কানি (Shahi Kani)" স্কেলে তৈরি। আর পাহাড়ি ও বন খতিয়ানে ১ শাহী কানি সমান ১২০ শতক (সমতলের ৩ কানির সমান)।

যদি ক্রেতা সাধারণ হিসেবে চুক্তি করতেন, তবে বিক্রেতা তার বাকি ৮০ শতক জমি থেকে বঞ্চিত হতেন অথবা চুক্তি ভঙ্গের মামলা তৈরি হতো। সঠিক সূত্র দিয়ে খতিয়ানটি ভেঙে রূপান্তর করার পর উভয় পক্ষ ন্যায্য মূল্যে পুরো জমিটি কেনাবেচা সম্পন্ন করেন।


কানি, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিলের গাণিতিক সম্পর্কের মূল সূত্র

বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (DLRS) এবং প্রাচীন ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী আঞ্চলিক ক্ষুদ্র এককগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নিম্নরূপ:

১ কানি (বা কেদার) = ২০ গণ্ডা
১ গণ্ডা           = ৪ কড়া
১ কড়া            = ৩ ক্রান্তি
১ ক্রান্তি        = ২০ তিল
---------------------------------------------
মোট রূপান্তর: ১ কানি = ২০ × ৪ × ৩ × ২০ = ৪,৮০০ তিল
  • ১ গণ্ডা = ২৪০ তিল (৪ × ৩ × ২০)
  • ১ কড়া = ৬০ তিল (৩ × ২০)
  • ১ ক্রান্তি = ২০ তিল
  • ১ দ্রোণ (Droon) = ১৬ কানি = ৭৬,৮০০ তিল (চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে বড় জোতের খতিয়ানে ব্যবহৃত)
  • ১ হাল (Haal) = ১২ কেদার বা কানি = ৫৭,৬০০ তিল (সিলেট অঞ্চলে ব্যবহৃত)
  • ১ পোয়া (Poa) = ১/৪ কেদার বা কানি = ৫ গণ্ডা = ১,২০০ তিল

অঞ্চলভেদে কানি ও কেদারের শতক ও বর্গফুট রূপান্তর চার্ট

বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক কারণে কানি ও কেদারের ক্ষেত্রফলে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে:

অঞ্চল / জেলাস্থানীয় প্রধান এককসরকারি শতক (Decimal)কাঠা (Katha)বর্গফুট (Sq. Ft)বিশেষ প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম (প্রচলিত কানি)১ কানি৪০.০০ শতক২৪.২০ কাঠা১৭,৪২৪.০০সমতল ভূমি ও বসতভিটা খতিয়ান (১ গণ্ডা = ২ শতক)
চট্টগ্রাম (শাহী কানি)১ শাহী কানি১২০.০০ শতক৭২.৬০ কাঠা৫২,২৭২.০০পাহাড়ি ও গভীর বনভূমির প্রাচীন সিএস/এসএ খতিয়ান
কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া১ কানি৪০.০০ শতক২৪.২০ কাঠা১৭,৪২৪.০০স্থানীয়ভাবে ২০ গণ্ডায় ১ কানি (প্রতি গণ্ডা = ৮৭১.২ বর্গফুট)
নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর১ কানি৪০.০০ শতক২৪.২০ কাঠা১৭,৪২৪.০০উপকূলীয় কানি (১ কানি = ৪০ শতক)
সিলেট বিভাগ (কেদার)১ কেদার / কানি৩০.০০ শতক১৮.১৫ কাঠা১৩,০৬৮.০০২০ গণ্ডায় ১ কেদার (প্রতি গণ্ডা = ১.৫ শতক বা ৬৫৩.৪ বর্গফুট)
বরিশাল ও পটুয়াখালী (বড় কানি)১ বড় কানি১৬০.০০ শতক৯৬.৮০ কাঠা৬৯,৬৯৬.০০১ কানি = ১.৬ একর (প্রতি গণ্ডা = ৮ শতক)
বরিশাল (মাঝারি কানি)১ মাঝারি কানি১২০.০০ শতক৭২.৬০ কাঠা৫২,২৭২.০০১ কানি = ১.২ একর (প্রতি গণ্ডা = ৬ শতক)
বরিশাল ও ভোলা (ছোট কানি)১ ছোট কানি৮০.০০ শতক৪৮.৪০ কাঠা৩৪,৮৪৮.০০১ কানি = ০.৮ একর (প্রতি গণ্ডা = ৪ শতক)
ঢাকা, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল১ পাখি / বিঘা৩৩.০০ শতক২০.০০ কাঠা১৪,৪০০.০০১ পাখি = ১ সরকারি বিঘা = ৩৩ শতক
রংপুর, বগুড়া ও উত্তরবঙ্গ১ দোন / বিঘা৩৩.০০ শতক২০.০০ কাঠা১৪,৪০০.০০স্থানীয় দোন বা পাখি = সরকারি বিঘা

ব্রিটিশ আমলের সিএস ও আরএস খতিয়ানের সাংকেতিক চিহ্ন পড়ার নিয়ম

পুরনো সিএস (CS) এবং এসএ (SA) খতিয়ানে সাধারণত বর্তমান সময়ের মতো বাংলা সংখ্যায় কড়া বা ক্রান্তি লেখা হতো না। এর পরিবর্তে মোহরার বা আমিনরা বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন:

১. কড়ার সাংকেতিক চিহ্ন:

  • ১ কড়া: একটি ডানহাতি হেলানো রেখা — /
  • ২ কড়া: দুটি সমান্তরাল হেলানো রেখা — //
  • ৩ কড়া: তিনটি সমান্তরাল হেলানো রেখা — ///
  • ৪ কড়া: পূর্ণ ৪ কড়া হলে তা চিহ্নে না লিখে ১ গণ্ডা হিসেবে লেখা হতো।

২. ক্রান্তির সাংকেতিক চিহ্ন:

  • ১ ক্রান্তি: একটি বাঁহাতি হেলানো বিপরীত রেখা — \
  • ২ ক্রান্তি: দুটি বাঁহাতি হেলানো রেখা — \\
  • ৩ ক্রান্তি: পূর্ণ ৩ ক্রান্তি হলে তা ১ কড়া হিসেবে রূপান্তর হতো।

৩. তিলের সাংকেতিক চিহ্ন:

  • তিল প্রকাশের জন্য সংখ্যার নিচে একটি ছোট বিন্দু বা ডট ব্যবহার করা হতো।

আঞ্চলিক খতিয়ানের জমি কেনার পূর্বে ৫টি অপরিহার্য সতর্কতা

  1. মৌজার প্রচলিত কানি নিশ্চিত করুন: জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহশিল অফিস) বা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হোন ঐ মৌজায় কানি কত শতকে হিসাব করা হয় (যেমন: বরিশালে বড় কানি নাকি ছোট কানি)।
  2. দলিলের বয়ান ও দাগের শতক মেলান: পুরনো দলিলের বয়ানে যদি লেখা থাকে "২ কানি ৫ গণ্ডা", তবে তফসিলের সর্বমোট অংশে সরকারি শতক কতো লেখা রয়েছে তা গুণ করে মিলিয়ে নিন।
  3. খতিয়ানের মোট হিস্যা যাচাই করুন: খতিয়ানে অংশীদারদের মোট হিস্যার যোগফল পূর্ণ ১.০০০ (বা ১৬ আনা) হচ্ছে কি না তা কানি-গণ্ডার ভগ্নাংশ যোগ করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
  4. ই-নামজারি (Mutation) পর্চায় সরকারি শতক লক্ষ্য করুন: বর্তমান স্মার্ট ভূমি সেবায় সকল খতিয়ান সরকারি শতক ও একর এককে প্রস্তুত হয়। তাই আঞ্চলিক একক থেকে শতকে সঠিকভাবে রেকর্ড পরিবর্তন হয়েছে কি না দেখুন।
  5. মাঠে ডিজিটাল ফিতা দিয়ে সীমানা মেপে নিন: কেবল কাগজের কানি-গণ্ডার ওপর নির্ভর না করে অভিজ্ঞ আমিন দ্বারা জমিটির চার বাহু ও আড়াআড়ি কর্ণ মেপে ডিজিটাল জমি পরিমাপ ক্যালকুলেটরে প্রকৃত শতক বের করুন।

সংশ্লিষ্ট ইন্টারনাল ক্যালকুলেটর:

সরকারি ভূমি সেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টাল:


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. চট্টগ্রামে ১ কানি সমান কত শতক বা কাঠা?

চট্টগ্রামের সমতল অঞ্চলের সাধারণ পরিমাপ অনুযায়ী ১ কানি সমান ৪০ শতক (শতাংশ) বা ২৪.২ কাঠা (১৭,৪২৪ বর্গফুট)। তবে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই বা পার্বত্য অঞ্চলের কিছু পাহাড়ি ও বন খতিয়ানে ১ শাহী কানি সমান ১২০ শতক।

২. সিলেটে ১ কেদার সমান কত শতক?

সিলেট বিভাগে প্রচলিত ১ কেদার (বা স্থানীয় কানি) সমান ৩০ শতক বা প্রায় ১৮.১৫ কাঠা (১৩,০৬৮ বর্গফুট)। সিলেটে ২০ গণ্ডায় ১ কেদার এবং প্রতি গণ্ডা সমান ১.৫ শতক।

৩. ১ দ্রোণ (Droon) সমান কত কানি জমি?

চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের পুরোনো খতিয়ান অনুযায়ী ১ দ্রোণ সমান ১৬ কানি জমি। যদি ১ কানি সমান ৪০ শতক হয়, তবে ১ দ্রোণ সমান ৬৪০ শতক বা ৬.৪ একর জমি।

৪. ১ পাখি বা দোন সমান কত বিঘা?

ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রংপুর অঞ্চলে ১ পাখি বা ১ দোন বলতে ১ সরকারি বিঘাকে বোঝানো হয়, যার পরিমাণ ৩৩ শতক (১৪,৪০০ বর্গফুট বা ২০ কাঠা)।

৫. কানি, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিলের গাণিতিক সম্পর্ক কী?

২০ গণ্ডায় ১ কানি, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া এবং ২০ তিলে ১ ক্রান্তি। অর্থাৎ ১ কানি = ৪,৮০০ তিল।