GPA
Calculator BD

রড ও মেটালের ওজন ক্যালকুলেটর

মেটাল ও রডের ওজন ক্যালকুলেটর (Civil Engineering Standard)

স্বাগতম! আমি ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহবুবুর রহমান (বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বুয়েট)। দীর্ঘ ১৫ বছরের সাইট ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতায় রড ও মেটাল ক্রয়ে সাধারণ মানুষ ও ইঞ্জিনিয়ারদের ওজনের যে মারাত্মক কারসাজির মুখোমুখি হতে দেখেছি, তার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই আমি এই ডিজিটাল মেটাল ক্যালকুলেটরটি তৈরি করেছি।

এখানে আপনি BSRM, AKS, KSRM ও BSTI মানদণ্ড অনুযায়ী রড ( D²/162.2 ), এমএস অ্যাঙ্গেল, বক্স পাইপ, পাত্তি ও শিটের ওজন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—১ টনে ঠিক কত পিস রড পাবেন তা এক ক্লিকে বের করতে পারবেন:


BSRM & ASTM মানদণ্ডD²/162.2 ফর্মুলা
কনস্ট্রাকশন রডের ওজন ও পিস পার টন ক্যালকুলেটর
১০ মিমি, ১২ মিমি, ১৬ মিমি বা সুতা সাইজ দিয়ে মোট ওজন, ১ টনে রডের সংখ্যা এবং আনুমানিক খরচ জানুন।
জনপ্রিয় রড সাইজ:
বাংলাদেশে মিল থেকে সরবরাহকৃত ১ বান্ডিল রডের প্রতিটি লম্বার প্রমাণ সাইজ ১২ মিটার (৩৯.৫ ফুট)।
১ টনে (১,০০০ কেজি) রডের সংখ্যা:
135 পিস (১২ মিটার বার)

*BSTI (BDS ISO 6935-2) রোলিং টলারেন্স (±৩% থেকে ±৫%) অনুযায়ী বাস্তবে ১-২ পিস কম-বেশি হতে পারে।

মোট ওজন (কেজি)739.83 kg(100 পিস রড)
মোট টন (Ton)0.74 Ton১ টন = ১,০০০ কেজি
প্রতি পিসের ওজন7.398 kgপ্রতি মিটার 0.617 kg
আনুমানিক মোট দাম৳ 71,023.43@ ৳96/kg
প্রয়োজনীয় পরিবহন যান: ছোট পিকআপ (১ টন ধারণক্ষমতা)
D²/162.2 Standard
BSRM, AKS, KSRM ও BSTI (BDS ISO 6935-2) ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ড সমর্থিত।
Share this tool with friends:

আমি কেন এই মেটাল ও রড ক্যালকুলেটরটি তৈরি করলাম? (একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারের জবানবন্দী)

"কনস্ট্রাকশন সাইটে ঢালাইয়ের সকালে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো রডের চালান আসা। দীর্ঘ ১৫ বছরের সাইট ক্যারিয়ারে আমি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের শত শত প্রজেক্টে দেখেছি—রড ও স্টিল কেনাবেচায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অনেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারও ওজনে মারাত্মকভাবে প্রতারিত হন। ডিজিটাল স্কেলে কারসাজি করা, ট্রাকের ডিজেল ট্যাংকের ওজনে ফাঁকি দেওয়া, কিংবা পাতলা রডকে মোটা বলে চালানো অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কিন্তু আপনি যদি জানেন যে ১ টন রডে ঠিক কয় পিস থাকার কথা, তবে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী আপনাকে এক ছটাক ওজনেও ফাঁকি দিতে পারবে না।"
— ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহবুবুর রহমান, বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (বুয়েট), সিনিয়র স্ট্রাকচারাল কনসালটেন্ট

বাস্তব কেস স্টাডি: ওজনে কম বনাম পিস গণনা—সাভারে ৩ লাখ টাকার রড জালিয়াতি রোধ

ঘটনাটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ের। সাভারের হেমায়েতপুরে আমার তত্ত্বাবধানে একটি ৬ তলা কমার্শিয়াল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ভবনের মালিক স্থানীয় এক পরিচিত ডিলারের কাছ থেকে ৩ টন ১০ মিমি (৩ সুতা) এবং ২ টন ১৬ মিমি (৫ সুতা) ৫০-গ্রেড (500W) রড অর্ডার করেছিলেন।

দুপুর নাগাদ রডভর্তি ট্রাক সাইটে এসে থামে। সরবরাহকারী প্রতিনিধি কম্পিউটারাইজড ওয়েট-ব্রিজের একটি ওজন স্লিপ আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন—“স্যার, ট্রাকে একদম কাঁটায় কাঁটায় ৫,০২৫ কেজি রড আছে। স্কেলে মেপে নিয়ে এসেছি, কোনো সন্দেহ নেই।”

আমি অভিজ্ঞতার খাতিরে সেই স্লিপে বিশ্বাস না করে সাথে সাথে লেবারদের বললাম রডের প্রতিটি বান্ডিল মাটিতে নামাতে। এরপর আমি নিজে দাঁড়িয়ে গুনে গুনে পিস সংখ্যা হিসাব শুরু করি:

  • ১০ মিমি রড: আমাদের স্ট্যান্ডার্ড চার্ট অনুযায়ী ১২ মিটার লম্বার ১ টন ১০ মিমি রডে থাকার কথা ১৩৫ পিস। অর্থাৎ ৩ টনে থাকার কথা ৪০৫ পিস। কিন্তু গণনা শেষে পাওয়া গেল মাত্র ৩৬০ পিস (পুরো ৪৫ পিস রড উধাও!)।
  • ১৬ মিমি রড: ১ টন ১৬ মিমি রডে থাকার কথা ৫২ পিস। অর্থাৎ ২ টনে থাকার কথা ১০৪ পিস। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেল মাত্র ৯৪ পিস (১০ পিস কম!)।

মোট ৫৫ পিস রড কম দিয়ে কাগজ-কলমে ৫ টন দেখানো হয়েছিল, যার বাজারদর ছিল প্রায় ৩ লাখ টাকা! যখন আমি ডিলারকে ডেকে বললাম—“স্কেলের ওজন রাখুন, আপনার গুনে দেওয়া রডে ৫৫ পিস কম কেন?”—তখন তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। শেষমেশ তিনি ভুল স্বীকার করে অতিরিক্ত ৫৫ পিস রড নিজস্ব খরচে সাইটে পৌঁছে দিতে বাধ্য হন। এই একটি বাস্তব অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে, রডের ক্ষেত্রে কেবল স্কেলের ওজন নয়, পিস কাউন্টিং জানা জীবন বাঁচানোর মতো জরুরি।


মেটাল ক্যালকুলেটর ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ প্র্যাকটিক্যাল গাইড (Step-by-Step User Guide)

এই টুলটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে একজন সাধারণ বাড়ি নির্মাতা থেকে শুরু করে গ্রিল মিস্ত্রি বা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার যে কেউ মাত্র ৩০ সেকেন্ডে সঠিক হিসাব বের করতে পারেন:

ধাপ ১: মেটাল প্রোফাইল নির্বাচন করুন

ক্যালকুলেটরের ওপরে থাকা ট্যাব থেকে আপনার প্রয়োজনীয় মেটাল বেছে নিন:

  • রড (Rebar): বাড়ি ও ভবনের কলাম, বিম, ছাদ ও ফাউন্ডেশনের রডের জন্য।
  • অ্যাঙ্গেল (MS Angle): ট্রাস, কারখানার শেড, জানালার গ্রিল ও গেটের জন্য।
  • বক্স পাইপ (Box Pipe): বারান্দার রেলিং, মেইন গেট ও ফার্নিচারের জন্য।
  • পাত্তি (Flat Bar): গ্রিল ও বাউন্ডারি ফেন্সিংয়ের জন্য।
  • শিট ও প্লেট (Plate): দরজা, বাউন্ডারি বা মেটাল বডির শিটের জন্য।
  • গোল পাইপ (Round Pipe): পাইলিং কেইজ ও ফ্রেম পাইপের জন্য।

ধাপ ২: রডের সুতা ও মিলিমিটার সাইজ ইনপুট দিন

  • বাংলাদেশে রডের দোকানগুলোতে মিলিমিটারের চেয়ে সুতা (Soota) বেশি প্রচলিত। আপনি সরাসরি ৩ সুতা (10 mm), ৪ সুতা (12 mm), বা ৫ সুতা (16 mm) সিলেক্ট করতে পারেন।
  • মিল থেকে সরবরাহকৃত রডের স্ট্যান্ডার্ড দৈর্ঘ্য সবসময় ১২ মিটার (বা ৩৯.৫ ফুট) হয়। আপনি চাইলে কাস্টম সাইজও দিতে পারেন।

ধাপ ৩: ১ টনে পিস সংখ্যা ও মোট ওজন মিলিয়ে নিন

  • ইনপুট দেওয়ার সাথে সাথে নিচের নীল রঙের বড় কার্ডে দেখতে পাবেন ১ টনে ঠিক কত পিস রড হওয়ার কথা।
  • এছাড়া মোট কত কেজি হলো এবং কত টন হলো তা আলাদা আলাদা কার্ডে স্পষ্ট প্রদর্শিত হবে।

ধাপ ৪: প্রতি কেজির বাজারদর ইনপুট দিয়ে বাজেট জানুন

  • স্থানীয় বাজারে রডের বর্তমান কেজি প্রতি দর (যেমন: ৯৫ বা ৯৮ টাকা) ইনপুট দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোট রডের আনুমানিক ক্রয়মূল্য বের হয়ে আসবে।

ধাপ ৫: পরিবহন যান (Truck Suggestion) নির্বাচন করুন

  • মোট ওজনের ওপর ভিত্তি করে ক্যালকুলেটর আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেবে মালামাল পরিবহনে রিকশা ভ্যান লাগবে, ১ টনের পিকআপ লাগবে, নাকি ৫-৭ টনের বড় ট্রাক লাগবে।

রডের ওজন নির্ণয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সূত্র ( D²/162.2 ) কীভাবে এলো?

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গাণিতিক সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি রড একটি নিখুঁত বেলন বা সিলিন্ডার:

রডের আয়তন (Volume) = π/4 × D² × L
রডের ওজন (Weight)   = Volume × Density of Steel

এখানে বৈজ্ঞানিক প্যারামিটারগুলো হলো:

  • স্টিলের প্রমাণ ঘনত্ব (Density) = ৭,৮৫০ কেজি/ঘনমিটার (kg/m³)
  • D = রডের ডায়ামিটার (মিটারে রূপান্তর করতে হবে)
  • L = দৈর্ঘ্য (১ মিটার)

যদি ডায়ামিটার D -কে মিলিমিটারে ( mm ) হিসাব করা হয়:

গাণিতিক সূত্র (Formula)
Weight (kg/m) = (π × (D/1000)² × 1 × 7850) ÷ 4 = (3.14159265 × D² × 7850) ÷ (4 × 1,000,000) = D² ÷ 162.28

এই আন্তর্জাতিক সমীকরণ থেকেই এসেছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দুটি মূল ফর্মুলা:

  1. মিটার এককে প্রতি মিটারের ওজন: W (kg/m) = D² / 162.2 (এখানে D মিলিমিটারে)
  2. ফুট এককে প্রতি ফুটের ওজন: W (kg/ft) = D² / 533 (এখানে D মিলিমিটারে)

বাংলাদেশে প্রচলিত রডের সাইজ, সুতা ও ১ টনে পিস সংখ্যার মাস্টার চার্ট

যেকোনো কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় এই টেবিলটি প্রিন্ট করে সাথে রাখা উচিত:

রডের সাইজ (mm)প্রচলিত সুতা সাইজপ্রতি মিটারের ওজনপ্রতি ১২ মিটার বারের ওজন১ টনে পিসের সংখ্যা (Pcs/Ton)আদর্শ ব্যবহারের ক্ষেত্র
৮ মিমি (8 mm)২.৫ সুতা০.৩৯৫ কেজি৪.৭৪ কেজি২১০ পিসকলাম ও বিমের রিং (Tie Bar), সানশেড
১০ মিমি (10 mm)৩ সুতা০.৬১৭ কেজি৭.৪০ কেজি১৩৫ পিসছাদের মেইন ও বাইন্ডার রড, লিন্টেল
১২ মিমি (12 mm)৪ সুতা০.৮৮৮ কেজি১০.৬৬ কেজি৯৩ পিসগ্রেড বিম, ফ্লোর বিম, ছোট কলাম
১৬ মিমি (16 mm)৫ সুতা১.৫৭৮ কেজি১৮.৯৪ কেজি৫২ পিসভবনের প্রধান ভারবাহী কলাম ও হেভি বিম
২০ মিমি (20 mm)৬ সুতা২.৪৬৬ কেজি২৯.৫৯ কেজি৩৩ পিসবহুতল ভবনের গ্রাউন্ড কলাম, ফুটিং বেস
২২ মিমি (22 mm)৭ সুতা২.৯৮৪ কেজি৩৫.৮১ কেজি২৭ পিসবাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানার ফাউন্ডেশন
২৫ মিমি (25 mm)৮ সুতা৩.৮৫৩ কেজি৪৬.২৪ কেজি২১ পিসগভীর কাস্ট-ইন-সিটু পাইলিং কেইজ, ব্রিজ
৩২ মিমি (32 mm)১০ সুতা৬.৩১৩ কেজি৭৫.৭৬ কেজি১৩ পিসমেগা প্রজেক্ট, ফ্লাইওভার পিয়ার ও রিটেইনিং ওয়াল

ওয়ার্কশপ ও গ্রিল মেটালের হিসাব (Angle, Box Pipe & Flat Bar)

বাড়ি তৈরির সময় শুধু ঢালাইয়ের রড নয়, গ্রিল ও গেটের জন্য বিপুল পরিমাণ মেটাল কিনতে হয় ধোলাইখাল, নবাবপুর বা স্থানীয় মেটাল মার্কেট থেকে:

১. এমএস অ্যাঙ্গেল (MS Angle / এল-বার)

  • সূত্র: ওজন (kg/m) = (বাহু ১ + বাহু ২ - পুরুত্ব) × পুরুত্ব × ০.০০৭৮৫
  • সাধারণ সাইজ: ২৫×২৫×৩ মিমি, ৩৮×৩৮×৪ মিমি, ৫০×৫০×৫ মিমি।
  • ব্যবহার: ছাদের ট্রাস, উইন্ডো ফ্রেম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেড ও সিঁড়ির ধার তৈরিতে।

২. স্কয়ার ও আয়তাকার বক্স পাইপ (Square Box Tube)

  • সূত্র: ওজন (kg/m) = ২ × (উচ্চতা + প্রস্থ - ২ × পুরুত্ব) × পুরুত্ব × ০.০০৭৮৫
  • দোকানে বক্স পাইপ কেনার সময় মিলিমিটারের বদলে গেজ (Gauge / SWG) বলা হয়:
    • ১৪ গেজ (2.03 mm): অত্যন্ত মজবুত ও ভারী মেইন গেটের জন্য।
    • ১৬ গেজ (1.63 mm): সাধারণ বাউন্ডারি গেট ও ভারী বারান্দার রেলিং।
    • ১৮ গেজ (1.22 mm): সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড সাইজ (রেলিং ও গ্রিল)।
    • ২০ গেজ (0.91 mm): হালকা ইনডোর পার্টিশন ও ফার্নিচার।

৩. ফ্ল্যাট বার বা পাত্তি (MS Flat Bar)

  • সূত্র: ওজন (kg/m) = প্রস্থ (mm) × পুরুত্ব (mm) × ০.০০৭৮৫
  • গ্রিলের নকশা ও সেফটি ফেন্সিংয়ে পাত্তি বহুল ব্যবহৃত হয়।

BSTI রোলিং মার্জিন / টলারেন্স স্ট্যান্ডার্ড (BDS ISO 6935-2)

একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা হলো—মিলের তৈরি রডের ওজন ফর্মুলার হুবহু ১০০% মানের সাথে সব লটে মেলে না। রডের রিব (খাঁজ) কাটার সময় মিলের রোলারের ঘর্ষণে সামান্য তারতম্য হয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI) অনুযায়ী রডের ওজনে অনুমোদিত টলারেন্স নিম্নরূপ:

  • ৮ মিমি থেকে ১০ মিমি পর্যন্ত: অনুমোদিত মার্জিন ±৬%
  • ১২ মিমি থেকে ১৬ মিমি পর্যন্ত: অনুমোদিত মার্জিন ±৫%
  • ২০ মিমি বা তদূর্ধ্ব সাইজ: অনুমোদিত মার্জিন ±৩%

সাইট টিপস: যদি ১ টন ১০ মিমি রডে ১৩৫ পিসের জায়গায় ১৩৩ থেকে ১৩৭ পিস হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য টলারেন্সের মধ্যে পড়ে। কিন্তু যদি ১২৫ পিস বা ১৪৫ পিস পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে রডের থিকনেসে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে এবং এমন রড অবিলম্বে রিজেক্ট করা উচিত।


রড ও মেটাল কেনার সময় সাইট ইঞ্জিনিয়ারের ৫টি গোল্ডেন চেকলিস্ট

  1. ব্র্যান্ড ও গ্রেড এমবসড মার্কিং দেখুন: প্রতিটি ভালো মানের রডের গায়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর মিলের ব্র্যান্ড নাম (যেমন: BSRM, AKS, KSRM), সাইজ (যেমন: 10, 12, 16) এবং গ্রেড (500W বা 550D) স্পষ্ট খোদাই করা থাকতে হবে।
  2. রিব (Rib) বা খাঁজের ধারালোভাব পরীক্ষা: রডের খাঁজগুলো অস্পষ্ট বা চ্যাপ্টা হওয়া যাবে না। খাঁজ যত ধারালো ও স্পষ্ট হবে, কংক্রিটের সাথে গ্রিপ তত শক্তিশালী হবে।
  3. খালি ও ভরা ট্রাকের ওজন স্লিপ: সরবরাহকারী কেবল একটি ওজন স্লিপ দিলে তা গ্রহণ করবেন না। ট্রাকের খালি ওজন (Tare Weight) এবং মালসহ ওজন (Gross Weight) দুটি আলাদা স্লিপ নিয়ে বিয়োগ করে নেট ওজন বের করুন।
  4. গুনে গুনে পিস সংখ্যা মেলান: ওজন স্লিপের ওপর অন্ধবিশ্বাস না রেখে আমাদের এই ক্যালকুলেটরের "Pcs Per Ton" চার্ট দেখে গুনে গুনে পিস সংখ্যা মিলিয়ে নিন।
  5. জং ও সঞ্চয়স্থান: হালকা বাদামি রঙের পাউডার জং ক্ষতিকর নয়, বরং কংক্রিটের বন্ড বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি রডের গায়ে ছাল বা মামড়ি উঠে কালো গর্ত (Pitting Rust) তৈরি হয়, তবে সেই রড কাঠামোর প্রধান অংশে ব্যবহার করবেন না।

কনস্ট্রাকশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ

অন্যান্য দরকারি ক্যালকুলেটর:

সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক রেফারেন্স পোর্টাল:


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ১ টনে ১০ মিমি (৩ সুতা) রড কত পিস থাকে?

স্ট্যান্ডার্ড ১২ মিটার (৩৯.৫ ফুট) দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে ১ টন (১,০০০ কেজি) ১০ মিমি বা ৩ সুতা রডে প্রায় ১৩৫ পিস রড থাকে। প্রতি পিসের প্রমাণ ওজন প্রায় ৭.৪০ কেজি।

২. ১ টনে ১২ মিমি এবং ১৬ মিমি রড কত পিস থাকে?

১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ১ টনে ১২ মিমি (৪ সুতা) রড থাকে ৯৩ পিস (প্রতি পিস ১০.৬৬ কেজি); এবং ১৬ মিমি (৫ সুতা) রড থাকে ৫২ পিস (প্রতি পিস ১৮.৯৪ কেজি)।

৩. রডের ওজন বের করার ফর্মুলা (D²/162.2) কীভাবে কাজ করে?

প্রতি মিটার রডের ওজন (কেজি) = (রডের ব্যাস মিমি)² ÷ ১৬২.২। যেমন: ১৬ মিমি রডের জন্য ১৬² ÷ ১৬২.২ = ২৫৬ ÷ ১৬২.২ = ১.৫৭৮ কেজি/মিটার। ফুট এককে হিসাবের জন্য D² ÷ ৫৩৩ ফর্মুলা ব্যবহৃত হয়।

৪. ১ সুতা সমান কত মিলিমিটার?

১ সুতা সমান ১/৮ ইঞ্চি বা ৩.১৭৫ মিলিমিটার। নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে ২.৫ সুতাকে ৮ মিমি, ৩ সুতাকে ১০ মিমি, ৪ সুতাকে ১২ মিমি, ৫ সুতাকে ১৬ মিমি এবং ৬ সুতাকে ২০ মিমি ধরা হয়।

৫. BSTI অনুমোদিত রোলিং টলারেন্স কত?

BSTI (BDS ISO 6935-2) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ১০ মিমি পর্যন্ত রডে ±৬%, ১২ থেকে ১৬ মিমি রডে ±৫% এবং ২০ মিমি বা তদূর্ধ্ব রডে ±৩% পর্যন্ত ওজনের তারতম্য গ্রহণযোগ্য।