ই-পাসপোর্ট সরকারি ফি ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশ সরকারের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) পরিচালিত ই-পাসপোর্ট (E-Passport) হলো সর্বাধুনিক বায়োমেট্রিক ও মাইক্রোচিপ সম্বলিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কোনো আনুমানিক বিষয় নয়, বরং এটি অধিদপ্তর কর্তৃক গেজেট আকারে প্রকাশিত সুনির্দিষ্ট নির্ধারিত ফি তালিকা।
তবে আবেদনকারীর বয়স, পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বনাম ৬৪ পৃষ্ঠা), মেয়াদ (৫ বছর বনাম ১০ বছর) এবং ডেলিভারির গতির ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। নিচের ক্যালকুলেটরটির মাধ্যমে আপনার সঠিক প্রদেয় ফি ও ডেলিভারি সময় যাচাই করে নিন।
উপরের তালিকায় প্রদর্শিত সরকারি ফি ব্যতীত পাসপোর্ট করতে আর কোনো অতিরিক্ত টাকা লাগে না। কোনো দালাল, ট্রাভেল এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করবেন না। পাসপোর্ট আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd থেকে নিজে সম্পন্ন করা যায় এবং ফি শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যাংকগুলোতে (সোনালী, প্রিমিয়ার, ওয়ান, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক) অথবা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।
ই-পাসপোর্ট অফিসিয়াল ফি তালিকা ২০২৬ (সকল ক্যাটাগরি)
| পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | রেগুলার (১৫ দিন) | এক্সপ্রেস (৭ দিন) | সুপার এক্সপ্রেস (২ দিন) |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পাতা | ৫ বছর | ৳৪,০২৫ | ৳৬,৩২৫ | ৳৮,৬২৫ |
| ৪৮ পাতা | ১০ বছর | ৳৫,৭৫০ | ৳৮,০৫০ | ৳১০,৩৫০ |
| ৬৪ পাতা | ৫ বছর | ৳৬,৩২৫ | ৳৮,৬২৫ | ৳১২,০৭৫ |
| ৬৪ পাতা | ১০ বছর | ৳৮,০৫০ | ৳১০,৩৫০ | ৳১৩,৮০০ |
বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অফিসিয়াল ফি চার্ট ২০২৬ (১৫% ভ্যাটসহ)
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য চূড়ান্ত ফি তালিকা:
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | মেয়াদের বছর | সাধারণ ডেলিভারি (১৫ কার্যদিবস) | এক্সপ্রেস ডেলিভারি (৭ কার্যদিবস) | সুপার এক্সপ্রেস (২ কার্যদিবস) |
|---|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা (48 Pages) | ৫ বছর (5 Years) | ৳ ৪,০২৫ | ৳ ৬,৩২৫ | ৳ ৮,৬২৫ |
| ৪৮ পৃষ্ঠা (48 Pages) | ১০ বছর (10 Years) | ৳ ৫,৭৫০ | ৳ ৮,০৫০ | ৳ ১০,৩৫০ |
| ৬৪ পৃষ্ঠা (64 Pages) | ৫ বছর (5 Years) | ৳ ৬,৩২৫ | ৳ ৮,৬২৫ | ৳ ১২,০৭৫ |
| ৬৪ পৃষ্ঠা (64 Pages) | ১০ বছর (10 Years) | ৳ ৮,০৫০ | ৳ ১০,৩৫০ | ৳ ১৩,৮০০ |
নোট: উল্লিখিত প্রতিটি ফি-এর ভেতরে সরকার নির্ধারিত ১৫% মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় আলাদা কোনো ভ্যাট দিতে হয় না।
ই-পাসপোর্ট ডেলিভারির সময়সীমা (Delivery Timeline)
| ডেলিভারির ধরণ | কার্যদিবস (Working Days) | মোট আনুমানিক সময় | প্রযোজ্যতা |
|---|---|---|---|
| রেগুলার (Regular) | ১৫ কার্যদিবস | প্রায় ২১ ক্যালেন্ডার দিন | নতুন ও রি-ইস্যু সবার জন্য |
| এক্সপ্রেস (Express) | ৭ কার্যদিবস | প্রায় ১০ ক্যালেন্ডার দিন | নতুন ও রি-ইস্যু সবার জন্য |
| সুপার এক্সপ্রেস (Super Express) | ২ কার্যদিবস | মাত্র ২ দিন | শুধুমাত্র রি-ইস্যু (তথ্য অপরিবর্তিত) |
🔑 ই-পাসপোর্ট আবেদনের ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়মাবলী
বেশিরভাগ আবেদনকারী এই ৩টি নিয়ম না জানার কারণে আবেদন ফরমে ভুল করেন অথবা দালালের খপ্পরে পড়েন:
১. বয়স-ভিত্তিক মেয়াদ সীমাবদ্ধতা (Age Restriction)
- আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের নিচে অথবা ৬৫ বছরের বেশি হলে তিনি শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট পাবেন। আইন অনুযায়ী তারা কোনো অবস্থাতেই ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
- শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিকগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট বেছে নিতে পারেন।
২. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি শর্ত (Super Express Eligibility)
- মাত্র ২ কার্যদিবসে পাসপোর্ট পাওয়ার 'সুপার এক্সপ্রেস' সুবিধা শুধুমাত্র রি-ইস্যু (Reissue) আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য—যাদের পূর্বে পাসপোর্ট রয়েছে এবং বর্তমান আবেদনে নাম, জন্মতারিখ বা স্থায়ী ঠিকানার মতো কোনো তথ্য পরিবর্তন হচ্ছে না।
- যারা প্রথমবার নতুন পাসপোর্ট করছেন, তারা পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কোনোভাবেই সুপার এক্সপ্রেস নিতে পারবেন না (তারা সর্বোচ্চ ৭ কার্যদিবসের এক্সপ্রেস ডেলিভারি নিতে পারেন)।
৩. সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা (NOC Benefit)
- প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের এনওসি (NOC) বা অবসরপ্রাপ্ত পেনশন বই দাখিল করলে রেগুলার ফি পরিশোধ করেই ৭ কার্যদিবসের এক্সপ্রেস ডেলিভারি সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
- ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৪৮ পাতা ৫ বছরে সরাসরি ৳২,৩০০ টাকা এবং ১০ বছরে ৳২,৩০০ টাকা সাশ্রয় হয়!
দালাল ও প্রতারণা প্রতিরোধ গাইডলাইন (Anti-Scam Advisory)
পাসপোর্ট অফিস প্রাঙ্গণে বা ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্রতারক চক্র "দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়া" বা "পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করিয়ে দেওয়া"-র নামে সরকারি ফি-এর চেয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করে থাকে। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন:
- সরকারি ফি-এর অতিরিক্ত কোনো টাকা নেই: উপরে প্রদর্শিত তালিকার বাইরে পাসপোর্ট অফিসে ১ টাকাও অতিরিক্ত দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
- অনলাইনে নিজেই আবেদন করুন: কোনো দোকানে বা কাউকে টাকা না দিয়ে সরকারি পোর্টাল epassport.gov.bd থেকে নিজেই ঘরে বসে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ফরম পূরণ করুন।
- অনুমোদিত ব্যাংকে ফি জমা দিন: এ-চালান (A-Challan) এর মাধ্যমে একপে (Ekpay) গেটওয়ে দিয়ে অথবা সোনালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ঢাকা ব্যাংকের যেকোনো শাখায় সরাসরি ফি পরিশোধ করুন।
- জরুরি হেল্পলাইন: যেকোনো হয়রানি বা অভিযোগের জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল কল সেন্টার নম্বর ১৬৪৫৮-এ যোগাযোগ করুন।
৪৮ পৃষ্ঠা বনাম ৬৪ পৃষ্ঠা: কোনটি আপনার জন্য সেরা?
- ৪৮ পৃষ্ঠা: আপনি যদি বছরে ১ বা ২ বার বিদেশ ভ্রমণ বা ওমরাহ/চিকিৎসার জন্য যান, তবে ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টই যথেষ্ট।
- ৬৪ পৃষ্ঠা: ব্যবসায়ী, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট পেশাজীবী, কূটনীতিক বা ঘন ঘন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নেওয়া সাশ্রয়ী, যাতে ঘন ঘন পাতা শেষ হয়ে নতুন পাসপোর্ট করতে না হয়।
ট্রাস্ট সিগন্যাল ও তথ্য যাচাইকরণ (EEAT Verification)
- সর্বশেষ ভেরিফাই করা হয়েছে: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- তথ্যের উৎস: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বাংলাদেশ (epassport.gov.bd) এবং পাসপোর্ট আইন ও সরকারি গেজেট।
- পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা: ফি ক্যালকুলেটরে প্রতিটি ক্যাটাগরি সরকারি সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রোগ্রাম করা হয়েছে এবং বয়স সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক ফিল্টার প্রয়োগ করা হয়েছে।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি নতুন পাসপোর্টের চেয়ে কম টাকা লাগে?
উত্তর: না। পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করার ফি নতুন পাসপোর্টের নির্ধারিত সরকারি ফি-এর সম্পূর্ণ সমান। এতে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না।
২. বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদনের ফি কি একই?
উত্তর: না। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি ইউএস ডলারে ($USD) অথবা স্থানীয় মুদ্রায় ধার্য করা হয় এবং ডেলিভারির সময়সীমা সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ কার্যদিবস ও জরুরি আবেদনে প্রায় ৩০ কার্যদিবস হয়ে থাকে।
৩. পুলিশ ভেরিফিকেশন কি সবার জন্যই বাধ্যতামূলক?
উত্তর: প্রথমবার নতুন পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। তবে পূর্বে পাসপোর্ট থাকা রি-ইস্যু আবেদনে যদি তথ্য অপরিবর্তিত থাকে এবং সরকারি চাকরিজীবীদের NOC থাকলে সাধারণত নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।