GPA
Calculator BD

সোনার যাকাত ও নিসাব ক্যালকুলেটর

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি ফরজ ইবাদত হলো যাকাত। কোনো মুসলিমের মালিকানায় যদি নিসাব পরিমাণ স্বর্ণালংকার বা সম্পদ টানা এক বছর (হাওলানুল হাওল) থাকে, তবে তার ওপর মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) যাকাত হিসেবে দরিদ্র ও হকদারদের মাঝে বণ্টন করা ফরজ।

শরিয়াহ অনুযায়ী শুধু সোনা থাকলে নিসাব হলো ৭.৫ ভরি (তোলা)। কিন্তু সোনার সাথে যদি কিছু নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স বা রূপা থাকে, তবে ফিকহী নিয়মে রূপার নিসাব (৫২.৫ ভরি রূপার মূল্য) কার্যকর হয়।

এই ক্যালকুলেটরটি বাজুসের আজকের লাইভ সোনা ও রূপার দর ব্যবহার করে হানাফী মাযহাব, স্বামী-স্ত্রীর পৃথক মালিকানা, ঋণ কর্তন ও পাথরের ওজন বাদ দিয়ে আপনার প্রদেয় যাকাত নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করে দেয়।

ইসলামিক শরিয়াহ ফিকহ ভিত্তিক৭.৫ ভরি সোনা • ৫২.৫ ভরি রূপালাইভ আপডেট তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

সোনার যাকাত ও নিসাব ক্যালকুলেটর

হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ ফতোয়া, স্বামী-স্ত্রীর পৃথক মালিকানা ও ঋণ সমন্বয়সহ শরিয়াহসম্মত যাকাত নির্ণয়।

স্বর্ণের নিসাব (৭.৫ ভরি / ৮৭.৪৮g):শুধু সোনা থাকলে প্রযোজ্য
৳16,56,435
রূপার নিসাব (৫২.৫ ভরি / ৬১২.৩৬g):সোনা + নগদ টাকা থাকলে প্রযোজ্য
৳2,02,073
শরিয়াহ নীতি: স্বামী ও স্ত্রীর সম্পদ আলাদা রাখার বিধান (No Joint Pooling)

ইসলামে আর্থিক মালিকানা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। স্বামী ও স্ত্রীর সম্পদ কখনোই একসাথে যোগ করে নিসাব হিসাব করা যাবে না। স্বামীর সোনার যাকাত স্বামীর নিজস্ব দায়িত্বে এবং স্ত্রীর গহনা বা মোহরানার যাকাত স্ত্রীর সম্পদে হিসাব করতে হবে।

১. যাকাত সম্পদের বিবরণ
আপনার মালিকানায় থাকা সোনা, রূপা ও জমানো নগদ অর্থ লিখুন।
হাওলানুল হাওল: এই সম্পদ কি ১ বছর যাবত আপনার কাছে আছে?নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ ১ চন্দ্রবছর স্থায়ী না হলে যাকাত ওয়াজিব হয় না।
যাকাত হিসাবের বর্ষপঞ্জি:
যাকাত ফতোয়া ও সনদ
যাকাত ফরজ
সর্বমোট প্রদেয় যাকাত (Zakat Payable)
৳44,172
হার: 2.5% (হিজরি বছর)
✓ আলহামদুলিল্লাহ, আপনার নিট সম্পদ (স্বর্ণের নিসাব পূর্ণ করেছে এবং ১ বছর অতিবাহিত হয়েছে। আপনার ওপর এই যাকাত দরিদ্র ও হকদারদের মাঝে আদায় করা ফরজ।
নিট সোনার মূল্য (মজুরি ও ভ্যাট ছাড়া):৳17,66,864
নিট যাকাতযোগ্য সম্পদ:৳17,66,864
প্রযোজ্য নিসাব সীমা (স্বর্ণ):৳16,56,435
যাকাত আদায়ের ৩টি জরুরি ফতোয়া

১. মজুরি ও ভ্যাট বাদ: গহনা কেনার মেমোর মেকিং চার্জ বা ভ্যাটের ওপর কোনো যাকাত নেই; শুধু খাঁটি সোনার বাজারমূল্যের ওপর যাকাত আসবে।

২. কাকে যাকাত দেওয়া যায় না: নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান-সন্ততি এবং স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া জায়েজ নেই। তবে দরিদ্র ভাই, বোন বা আত্মীয়দের দেওয়া উত্তম।

৩. নাবালকের সোনা: অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশুর সম্পদে হানাফী মাযহাবে যাকাত ফরজ নয়।

একটি ফরজ ইবাদত আদায়ে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:
Share this tool with friends:

ইসলামিক শরিয়াহ ও ফিকহ অনুযায়ী সোনার যাকাতের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা

ইসলামিক ফিকাহ একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী সোনার যাকাতের জরুরি বিধানগুলো নিচে দেওয়া হলো:


১. নিসাব নির্ধারণের মৌলিক নিয়ম (Nisab Threshold)

  • শুধুমাত্র সোনা থাকলে (Gold Only):
    কারও কাছে যদি শুধুই সোনা থাকে (কোনো রূপা, নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র বা ব্যবসার পণ্য না থাকে), তবে তার জন্য নিসাব হলো ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম)। ৭.৫ ভরির কম সোনা থাকলে যাকাত ফরজ নয়।
  • সোনা + নগদ টাকা / রূপা থাকলে (Mixed Assets - ৯৯% মানুষের ক্ষেত্রে):
    কারও কাছে যদি স্বর্ণের পাশাপাশি কিছু নগদ ক্যাশ, ব্যাংক ডিপোজিট বা সামান্য রূপা থাকে, তবে স্বর্ণের ৭.৫ ভরি নিসাব আর প্রযোজ্য হবে না; তখন রূপার নিসাব (৫২.৫ ভরি / ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্য) কার্যকর হবে। কারণ রূপার নিসাব ধরলে দরিদ্রদের অধিক ফায়দা হয়।

২. স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ আলাদা রাখার বিধান (Individual Ownership)

  • ইসলামে আর্থিক মালিকানা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।
  • স্বামী ও স্ত্রীর সম্পদ কখনোই একসাথে যোগ (Pool) করে নিসাব হিসাব করা যাবে না।
  • স্বামীর মালিকানায় থাকা সম্পদের যাকাত স্বামীর ওপর, এবং স্ত্রীর নিজস্ব গহনা/মোহরানার যাকাত স্ত্রীর ওপর ফরজ।

৩. হাওলানুল হাওল (পূর্ণ এক বছর স্থায়ী থাকার শর্ত)

  • নিসাব পরিমাণ সম্পদ টানা একটি হিজরি চন্দ্রবছর (৩৫৪ দিন) নিজের পূর্ণ মালিকানায় থাকতে হবে।
  • যদি কেউ মাত্র কয়েক মাস আগে উপহার হিসেবে বা কেনাকাটার মাধ্যমে নিসাবের মালিক হন, তবে আজকের দিনে তার ওপর যাকাত ফরজ নয়; বছর পূর্ণ হওয়ার পরই কেবল যাকাত দিতে হবে।

৪. ব্যবহার্য গহনার যাকাত (Hanafi vs Other Madhab)

  • হানাফী মাযহাব (বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুসারী):
    গহনা নিয়মিত গায়ে পরা হোক বা লকারে জমিয়ে রাখা হোক—সোনার ধাতু থাকলে নিসাব পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে সকল ব্যবহার্য ও জমাকৃত গহনার ওপর যাকাত ফরজ।
  • শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব:
    নারীদের স্বাভাবিক ব্যবহারের অলংকারের ওপর যাকাত ফরজ নয়; কেবল বিনিয়োগ ও জমিয়ে রাখা অতিরিক্ত সোনার ওপর যাকাত দিতে হয়।

৫. গহনার মূল্য নির্ধারণ ও কারিগর মজুরি বাদ

  • গহনা কেনার সময় যে কারিগর মজুরি (Making Charge) ও ৫% সরকারি ভ্যাট দেওয়া হয়েছিল, তার ওপর কোনো যাকাত নেই।
  • যাকাত দিতে হবে গহনায় থাকা খাঁটি নিট সোনার আজকের বাজারমূল্যের ওপর। গহনায় থাকা রত্নপাথর, কুন্দন বা মুক্তার ওজন বাদ যাবে।

৬. চন্দ্রবছর বনাম সৌরবছরের যাকাতের হার

  • হিজরি চন্দ্রবর্ষ (Lunar Year): যাকাতের শরিয়াহ হার হলো ২.৫% (১/৪০ অংশ)।
  • ইংরেজি সৌরবর্ষ (Solar Calendar): কেউ যদি ইংরেজি ৩৬৫ দিনের ক্যালেন্ডারে হিসাব করেন, তবে বছর ১০-১১ দিন বড় হওয়ায় যাকাতের হার হবে ২.৫৭৭%।
লাইভ ভরি দর
BAJUS
লাইভ আপডেট তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
২২ ক্যারেট (হলমার্ক)৳220,858
প্রতি গ্রাম৳18,935
২৪ ক্যারেট (খাঁটি সোনা)৳240,954
প্রতি গ্রাম৳20,658
💡 বিক্রয় ও বদল দর:
ক্যাশ বিক্রয় (-১৮%):৳181,104
নতুন বদল (-১৩%):৳192,146
স্বর্ণ পরিমাপ একক ও রূপান্তর
১ ভরি সমান১১.৬৬৩৮ গ্রাম
১ ভরি সমান১৬ আনা (৯৬০ পয়েন্ট)
১ আনা৬ রতি = ৬০ পয়েন্ট
১ রতি১০ পয়েন্ট = ০.১২১৫ গ্রাম
১ গ্রাম৮২.৩ পয়েন্ট
ভরি ও পয়েন্ট কনভার্টার ব্যবহার করুন
ক্যারেট ও বিশুদ্ধতার তালিকা
২৪ ক্যারেটপাকা সোনা / বার
৯৯.৯% খাঁটি
২২ ক্যারেটহলমার্ক ৯১৬ (সেরা গহনা)
৯১.৬% খাঁটি
২১ ক্যারেটহলমার্ক ৮৭৫ (শক্তিশালী)
৮৭.৫% খাঁটি
১৮ ক্যারেটহলমার্ক ৭৫০ (হালকা গহনা)
৭৫.০% খাঁটি
সনাতন পদ্ধতিঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সোনা
৬০-৭০% খাঁটি
গহনা কেনার ৫টি নিরাপদ টিপস
লেজার হলমার্ক নিশ্চিত করুন: গহনার পেছনে 916 বা 875 সিল দেখে নিন।
মেকিং চার্জ দরদাম করুন: সাধারণ ডিজাইনে ৩,০০০-৪,০০০ টাকা/ভরি মজুরি স্ট্যান্ডার্ড।
পাথরের ওজন বাদ দিন: স্টোন বা কুন্দন থাকলে নিট স্বর্ণের ওজন মেমোতে লিখিয়ে নিন।
৫% ভ্যাটসহ পাকা রসিদ: বিক্রির সময় রসিদ না থাকলে গলন চার্জ বেশি কাটা যায়।
বদল সুবিধা নিন: ক্যাশ বিক্রির চেয়ে নতুন গহনায় বদল করলে ৫% টাকা সাশ্রয় হয়।