পাকা পরতা ক্যালকুলেটর
স্বর্ণের পাইকারি বাজার (যেমন: ঢাকার তাঁতি বাজার বা চট্টগ্রামের বক্সিরহাট) এবং জুয়েলারি কারিগরদের কাছে "পাকা পরতা" (Paka Porta) অত্যন্ত পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। বাজারে সবসময় ২৪ ক্যারেটের নিখাদ পাকা সোনার বাটের দর নির্ধারিত থাকে। কিন্তু অলংকার তৈরির সময় স্বর্ণ নরম হওয়ায় তাতে নির্দিষ্ট অনুপাতে তামা বা রূপার খাদ মেশাতে হয়, যার ফলে ক্যারেট কমে ২২K, ২১K বা ১৮K হয়।
২৪ ক্যারেটের নিখাদ মূল্যের সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ওজনের ২২/২১/১৮ ক্যারেটের প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় দর নির্ধারণ করার গাণিতিক হিসাবই হলো "পাকা পরতা"।
এই ক্যালকুলেটরটির মাধ্যমে কারিগর ও ব্যবসায়ীরা পাকা পরতা দর বের করার পাশাপাশি—কতটুকু খাঁটি সোনায় কত গ্রাম খাদ মেশাতে হবে, টাচ (Touch) থেকে ক্যারেট রূপান্তর এবং গলন ঘাটতি (পলি) সমন্বয় করে এক ক্লিকে শতভাগ নির্ভুল ফলাফল তৈরি করতে পারবেন।
পাকা পরতা ক্যালকুলেটর
২৪ ক্যারেট পাকা সোনার সাপেক্ষে ২২K, ২১K, ১৮K বা কাস্টম টাচের প্রকৃত নিখাদ পরতা দর এবং খাদ মেশানোর হিসাব।
💡 তাঁতি বাজারে পাকা সোনার আলাদা দর থাকলে আপনি নিজের ইচ্ছামতো সংখ্যা লিখে নিতে পারেন।
চুল্লিতে সোনা গলানোর সময় যে ০.৫% - ১.৫% ধাতু বাষ্পে ক্ষয় হয় তা বাদ দিন।
আপনি যদি এই 11.664 গ্রাম খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে 22 ক্যারেট গহনা বানাতে চান, তবে আপনাকে:
পাকা পরতা হিসাব বিবরণী
কথায়: দুই লক্ষ বিশ হাজার আট শত পঁচাত্তর টাকা মাত্র
পাকা পরতা ও স্বর্ণালংকার তৈরির অ্যাডভান্সড ওয়ার্কশপ গাইডলাইন
প্রফেশনাল জুয়েলার্স ও স্বর্ণকাররা গহনা তৈরির সময় যে গাণিতিক সূত্রগুলো অনুসরণ করেন, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. পাকা পরতা নির্ণয়ের মূল সূত্র (Base Porta Formula)
২৪ ক্যারেটের বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম বের করার নিয়ম:
গাণিতিক সূত্র (Formula)
- উদাহরণ: যদি ২৪ ক্যারেটের ভরির দাম ২,৫৫,৯৬৯ টাকা হয়, তবে ২২ ক্যারেটের পাকা পরতা দর হবে:
গাণিতিক সূত্র (Formula)
২. খাদ বা তামা মেশানোর সমীকরণ (Alloy Addition Formula)
২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে ২২ বা ২১ ক্যারেট গহনা তৈরির জন্য ঠিক কত গ্রাম সংকর (তামা/রূপা) মেশাতে হবে:
গাণিতিক সূত্র (Formula)
- বাস্তব উদাহরণ: আপনার কাছে ১০ গ্রাম খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনা আছে। এটি দিয়ে ২২ ক্যারেটের চেইন বানাতে কত খাদ লাগবে?
গাণিতিক সূত্র (Formula)
অর্থাৎ, ১০ গ্রাম খাঁটি সোনা + ০.৯০৯ গ্রাম খাদ = মোট ১০.৯০৯ গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেট সোনা তৈরি হবে।
৩. "টাচ" বনাম ক্যারেট রূপান্তর (Touch to Karat)
তাঁতি বাজার ও জুয়েলারি ওয়ার্কশপে ক্যারেটের চেয়ে "টাচ" (Touch / Purity %) শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হয়:
- ৯২ টাচ: ৯২ ÷ ১০০ × ২৪ = ২২.০৮ ক্যারেট (আদর্শ ২২ ক্যারেট হলমার্ক ৯১৬)।
- ৮৮ টাচ: ৮৮ ÷ ১০০ × ২৪ = ২১.১২ ক্যারেট (২১ ক্যারেট)।
- ৭৫ টাচ: ৭৫ ÷ ১০০ × ২৪ = ১৮ ক্যারেট (১৮ ক্যারেট)।
৪. গলন ঘাটতি বা "পলি" (Melting Loss Logic)
সোনার বাট বা পুরোনো সোনা যখন চুল্লিতে গলানো হয়, তখন তাপে ধাতুর সামান্য অংশ বাষ্পীভূত হয় বা ছাইয়ের সাথে ক্ষয় হয়। একে স্বর্ণকাররা "পলি" বা "গলন ঘাটতি" বলেন (সাধারণত ০.৫% থেকে ১.৫%)। আমাদের ক্যালকুলেটরের গলন ঘাটতি অপশনটি অন করে কারিগররা নিট কার্যকর ওজন মেলাতে পারবেন।